দা ও ছেনীর আঘাতে দুজন জখম, টাকা ছিনিয়ে নেওয়া ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি, শাহরাস্তি (চাঁদপুর):
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বাগানে রোপণ করা ফলজ ও বনজ গাছ কাটায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই ব্যক্তিকে জখম, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম (৫৮) শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি স্থানীয় একটি কাঠের মসজিদে মোয়াজ্জেমের দায়িত্ব পালন করছেন।
গত ১৭ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের রাগৈ এলাকার দক্ষিণ পাড়া পণ্ডিত বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ফরহাদ ও মুরাদ দুই ভাইয়ের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগকারীর দাবি, এর আগে তাঁর রোপণ করা কলাগাছ কেটে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, ঘটনার দিন দুপুরে অভিযুক্ত দুই ভাই তাঁর জায়গায় প্রবেশ করে রোপণ করা বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ কাটতে শুরু করেন। এতে বাধা দিলে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেওয়া হয়। তাঁর চিৎকার শুনে প্রতিবেশী বেলায়েত হোসেন (২৯) ও মিজানুর রহমান (৬৫) ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। তাঁরা অভিযুক্তদের সেখান থেকে চলে যেতে বললে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে অভিযুক্তদের একজন দা দিয়ে বেলায়েত হোসেনকে আঘাত করেন। তিনি হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তাঁর বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের নিচে কেটে যায়। অন্যদিকে, অপর অভিযুক্তের হাতে থাকা ছেনীর আঘাতে মিজানুর রহমানের ডান হাতের তর্জনীর নিচের অংশে জখম হয়। এ ছাড়া তাঁদেরসহ অন্যদের মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তাঁর শার্টের বুকপকেটে থাকা ব্যবসার নগদ ২ হাজার ২৫০ টাকা নিয়ে যান অভিযুক্তদের একজন। পরে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।
আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে অভিযুক্তরা তাঁদের ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় মামলা করলে বাড়িঘর ও দোকানপাট পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন অভিযোগকারী।
জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের বিরোধ ও ধারাবাহিক হুমকির কারণে তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এ অবস্থায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করার পর তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।
![]()
