গাজী রিয়াজ হোসেন :
চাঁদপুর সদর উপজেলায় জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি ভিজিএফের চাল বণ্টনের আগেই অন্যত্র নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শহরের বিপণীবাগ মোড় থেকে ৪ হাজার ৯৩০ কেজি চালসহ একটি ট্রাক জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। ট্রাকে থাকা স্লিপ অনুযায়ী, এতে প্রায় পাঁচ টন চাল ছিল। চালগুলো আলীগঞ্জ হয়ে লাকসামের দিকে নেওয়া হচ্ছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম জানান, জেলেদের জন্য বরাদ্দ সরকারি চাল কীভাবে জেলার বাইরে নেওয়া হচ্ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা কর্মকর্তা জড়িত রয়েছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়া পর্যন্ত জব্দ করা চাল তদন্ত কমিটির হেফাজতে থাকবে।
চাল কেনার দাবি করা ইউনুস জানান, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তফা কামাল শামীমের কাছ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার টাকায় পাঁচ টন চাল কিনেছেন তিনি। খাদ্যগুদাম থেকে চাল নেওয়ার পর সেগুলো জেলার বাইরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে প্রশাসনের নির্দেশে ট্রাকটি চাঁদপুরে ফিরিয়ে আনা হয়।
তবে চাল বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোস্তফা কামাল শামীম। তাঁর দাবি, ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ ১১৩ টন চালের মধ্যে ১০৪ টন ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। তবে এখনো জেলেদের মধ্যে কার্ড বিতরণ কিংবা চাল বিতরণ শুরু হয়নি। আগামী বুধবার থেকে চাল বিতরণ শুরুর কথা রয়েছে। তাঁকে ষড়যন্ত্র করে এ ঘটনায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের জেলেদের জন্য মোট ১১৩ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ টন চাল অন্যত্র নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি চাল বিতরণের আগেই কীভাবে তা জেলার বাইরে নেওয়া হচ্ছিল এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
![]()
