গাজী রিয়াজ হোসেন :
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া বাজারের ‘মুদি গলি’তে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় আরও তিনটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে অর্ধকোটি টাকারও বেশি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ১২ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রাত ১২টার দিকে ‘শহীদ সু স্টোর’ নামের একটি জুতার দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের ‘আদর্শ ফার্মেসি’তে ছড়িয়ে পড়ে। পরে মনিরের মুদি দোকান ও মাইনউদ্দিনের মুদি দোকানেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে দোকানগুলোর বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে যায়।
এ ছাড়া আগুনে রফিকের মুদি দোকান, নেছার আহমেদের মুদি দোকান এবং ফরিদ ডাক্তারের ওষুধের দোকানের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
‘আদর্শ ফার্মেসি’র মালিক টুটুল চন্দ্র শীল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দুই ভাইয়ের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও সঞ্চয়ে গড়ে তোলা ফার্মেসিটি আগুনে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ওষুধ ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে।
‘শহীদ সু স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন। দোকান বন্ধ থাকা অবস্থায় আগুন লাগলেও তাঁর প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে মনিরের মুদি দোকান ও মাইনউদ্দিনের মুদি দোকানে প্রায় ৫ লাখ টাকা করে মালামাল পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
গৃদকালিন্দিয়া বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ জামাল বলেন, আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ফায়ার সার্ভিসকে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন। ফায়ার সার্ভিস কিছুটা দেরিতে পৌঁছালে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বাজারের ব্যবসায়ীদের পুরোনো বৈদ্যুতিক তার, সুইচ ও সকেট নিয়মিত পরীক্ষা করার আহ্বান জানান।
ফরিদগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার রবিউল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
![]()
