গাজী রিয়াজ হোসেন :
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে জনতার পিটুনিতে নিহত চাঁদপুরের আলোচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন এলাকায় তাদের মরদেহ উত্তোলন করা হয়।
সকালে প্রথমে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন এলাকায় সেলিম খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। এর কিছু সময় পর একই এলাকার কবর থেকে তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহও উত্তোলন করা হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানিয়েছিলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ময়নাতদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের পর বুধবার আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে মরদেহ দুটি উত্তোলন করা হয়।
সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান ‘শাপলা মিডিয়া’র স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তাঁর ছেলে শান্ত খান চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি লাভ করেন।
সেলিম খানের বিরুদ্ধে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ছিল। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে ‘বালুখেকো চেয়ারম্যান’ হিসেবে আলোচনায় আসেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজস্ব ফাঁকিসহ একাধিক মামলা এবং কারাবাসের তথ্যও রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করার সময় জনতার পিটুনিতে সেলিম খান ও তাঁর ছেলে শান্ত খান নিহত হন।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত মরদেহ দুটি কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।
মরদেহ উত্তোলনের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
![]()
