স্টাফ রিপোর্ট :
সিলেট জেলা জামায়াতে ইসলামীতে তোলপাড়! অবশেষে পদ হারালেন জেলা জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা লোকমান আহমদ। স্থগিত করা হয়েছে তার দলীয় সর্বোচ্চ মর্যাদা—‘রুকনিয়াত’। শুধু তা-ই নয়, সদ্য অনুষ্ঠিত জেলা আমীর নির্বাচনের ভোটার তালিকা থেকেও এক ঝটকায় ছেঁটে ফেলা হয়েছে তার নাম। ঘটনার আকস্মিকতায় সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চরম চাঞ্চল্য।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট জেলা জামায়াতের বেশ কয়েকজন কর্মপরিষদ সদস্য। তবে ভেতরের খবর আরও নাটক ।
দলীয় সূত্র জানায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর মালিক সমিতির ব্যানারে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদী মিছিল বের করা হয়। আর সেই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন লোকমান আহমদ। ব্যাস, তাতেই যেন কাল হলো তার জন্য!
মিছিলের ঠিক তিন দিন পর, ১০ সেপ্টেম্বর নগরীর কুদরতউল্লাহ মার্কেটস্থ জেলা জামায়াত কার্যালয়ে বসে জরুরি কর্মপরিষদ বৈঠক। জেলা আমীরের উপস্থিতিতে সেই বৈঠকেই গৃহীত হয় লোকমান আহমদের রুকনিয়াত স্থগিতের কঠোর সিদ্ধান্ত।
ঘটনার আড়ালের গল্প শোনা গেল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মপরিষদ সদস্যের মুখে। তিনি জানান, ৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রথম দিকে জেলা আমীর সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটে ৩০ আগস্ট। মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম লোকমান আহমদকে মিছিলটি না করার জন্য বারণ করেন।
এরপর শুরু হয় টানাপোড়েন। জেলা ও মহানগর জামায়াতের দুই আমীরের বিপরীতমুখী অবস্থানের মাঝে পড়ে রশি টানাটানি শুরু হয়। অবশ্য ২ ও ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জেলা কর্মপরিষদের পৃথক দুটি বৈঠকে মিছিলটি করার পূর্বের অনুমতিই বলবৎ রাখা হয়।
কিন্তু মিছিলটি মাঠে গড়ালে জেলা ও মহানগর জামায়াতের ভেতরে কোন্দল চরম রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন জামায়াতের অঞ্চল পরিচালক ও কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর—কেন্দ্রীয় এই শীর্ষ নেতার প্রচণ্ড চাপ ও হস্তক্ষেপের মুখেই শেষ পর্যন্ত গত ৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে লোকমান আহমদের রুকনিয়াত স্থগিত করতে বাধ্য হয় জেলা কর্মপরিষদ।
ভেতরের এই উত্তাল পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর ও সম্পাদকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে দুজনেই কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাননি কোনো দায়িত্বশীল নেতাই।
অন্যদিকে যার রুকনিয়াত স্থগিত নিয়ে পুরো সিলেটে তোলপাড়, সেই ভুক্তভোগী নেতা লোকমান আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি, এমনকি পরবর্তীতে ব্যাকও করেননি।
সব মিলিয়ে, হাসপাতালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে নিজ দলেই ‘কোপের’ মুখে পড়া লোকমান আহমদের এই পরিণতি এখন সিলেটের রাজনীতির মোড়ে মোড়ে মুখরোচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
![]()
