• Mon. Nov 2nd, 2026

meghnapost.online

তাঁবেদারী নয়, সত্য প্রকাশে দূর্বার সাহস

ধর্ম-বর্ণের বিভেদ নয়, বাংলাদেশি পরিচয়ই হবে সবার: মাহদী আমিন

Bymeghnapost .online

Oct 10, 2026

গাজী রিয়াজ হোসেন :

ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্য বা বিভেদের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকারের কাছ থেকে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মর্যাদা পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

শনিবার সকালে রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মহালয়া ১৪৩৩’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই, যেখানে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, পরিচয় হবে বাংলাদেশি।” নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করাই সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, মহালয়া নতুন আশার আলো এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা বহন করে। অন্ধকারকে পেছনে ফেলে আলোর জয় নিশ্চিত করাই এ উৎসবের মূল শিক্ষা।

তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ, আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিন্নতা থাকলেও সবার পরিচয় হবে বাংলাদেশি। এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে বিদ্বেষের জায়গা নেবে ভালোবাসা, বৈষম্যের জায়গা নেবে ন্যায়বিচার এবং বিভাজনের জায়গা নেবে ঐক্য।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপে আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে পূজার সরকারি ছুটিও বাড়ানো হয়েছে। সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষের মধ্যে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব বাংলাদেশের আবহমান ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃঢ় বন্ধন। ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশের মূল শক্তি এ দেশের জনগণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা এবং ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ই দেশের অগ্রযাত্রার চালিকাশক্তি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সার্বিক জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ।”

অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সার্বিক কল্যাণ এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের সাফল্য কামনা করেন। মহালয়ার এই শুভ সূচনা সবার জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে সকাল ৬টার দিকে বনানী মাঠে পৌঁছালে মাহদী আমিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের নেতারা। পরে সেখানে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা ও ক্ষণগণনা শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদার, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা, সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়সহ অন্যরা।

Loading

Share this news as a Photo Card

By meghnapost .online

তাঁবেদারী নয়, সত্য প্রকাশে দূর্বার সাহস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *