• Mon. Nov 2nd, 2026

meghnapost.online

তাঁবেদারী নয়, সত্য প্রকাশে দূর্বার সাহস

হাজীগঞ্জের সুবিদপুরে মৃত বাবার বিক্রি করা জমি রেজিস্ট্রি নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ ফরহাদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

Bymeghnapost .online

Oct 4, 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫নং হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সুবিদপুর ওহাব আলী বেপারি বাড়ির মৃত এস্কেন্দার বেপারীর বিক্রি করা ৯ শতাংশ জমি ক্রেতাদের নামে রেজিস্ট্রি নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী সাফিয়া খাতুন, ছেলে ফরহাদ হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে।

জমি বিক্রির পর সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির ক্রেতা আবুল হোসেন দুলাল গংরা ।

দুলাল গংয়ের অভিযোগ, তারা মৃত এস্কেন্দার বেপারীর কাছ থেকে সুবিদপুর মৌজায় ৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমির সম্পূর্ণ মূল্য তাদের খালু সাদিকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। তবে জমি বিক্রির কয়েক দিনের মধ্যেই এস্কেন্দার বেপারী মারা যাওয়ায় তার জীবদ্দশায় জমিটির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

এরপর বিক্রেতার মৃত্যুর পর জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য তার ছেলে ফরহাদ হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও বিষয়টির সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন দুলাল।

জমির সম্পূর্ণ মূল্য পরিশোধের পরও রেজিস্ট্রি না দেওয়ায় দুলাল গং হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনা শেষে একটি আপসনামাও করা হয়। সেখানে জমি সংক্রান্ত বিষয়টি সমাধান করে ক্রেতাদের নামে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার বিষয়ে সমঝোতা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন দুলাল। এর মধ্যে ফরহাদ হোসেন বিদেশে চলে যাওয়ায় বিষয়টি আরও দীর্ঘায়িত হয়।

সম্প্রতি ফরহাদ দেশে ফিরলে দুলাল গং পুনরায় জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে ফরহাদ তাদের সঙ্গে কথা না বলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেন ফরহাদকে।

এ বিষয়ে জমির ক্রেতা আবুল হোসেন দুলাল বলেন-আমরা জমির সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করেছি। আমার খালুর মাধ্যমে জমির টাকা দেওয়া হয়েছিল। জমি বিক্রির কয়েক দিনের মধ্যেই আমার মামা মারা যান। এরপর থেকেই জমিটি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করে আসছি।

প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দুলাল বেপারি বলেন-আমরা কারও সম্পত্তি দখল করতে চাই না। আমরা যে জমি কিনেছি, শুধু সেই জমির রেজিস্ট্রি চাই। বিষয়টি আইনানুগভাবে সমাধান হলে আমাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার অবসান হবে।

জমি কেনাবেচার সময় অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকা এস্কেন্দার বেপারীর বোনের জামাই ও দুলালের খালু সাদিক বলেন-জমি বিক্রির অর্থ আমার মাধ্যমেই পরিশোধ করা হয়েছিল। বিষয়টি সমাধান করে ক্রেতাদের নামে জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে ফরহাদ হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সামনে বিবাহ করবেন বলে ক্যামেরার সামনে আসতে রাজি হন নি। তবে সাংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর ফরহাদ তার ফুফুদের মাধ্যমে দুলাল বেপারিকে জানান আপাতত স্ট্যাম্প করে দিবে পরবর্তীতে ১ মাসের মধ্যে রেজস্ট্রি করে দেওয়ার কথা বললেও একদিন পর তা অস্বীকার করেন।

স্থানীয়রা জানান- ফরহাদ অনেকের সাথে এভাবে জায়গা নিয়ে প্রতারণা করছে। তার মৃত বাবাকে ঋণ মুক্ত করতে অতি দ্রুত ক্রেতাদের জায়গা রেজস্ট্রি করে দেওয়াই উত্তম।

Share this news as a Photo Card

By meghnapost .online

তাঁবেদারী নয়, সত্য প্রকাশে দূর্বার সাহস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *