বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার লামাতাশি ইউনিয়নের চারগাঁও সিলামী এলাকায় তুলার একটি গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে গোডাউনে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ তুলা, তুলা তৈরির দুটি বড় মেশিন, দুটি মোটরসহ গোডাউনের যাবতীয় মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন গোডাউনের মালিক। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে চারগাঁও সিলামী এলাকার ওই তুলার গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের খবর পেয়ে বাহুবল ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এরই মধ্যে টিনশেডের বড় গোডাউনটির অধিকাংশ মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে হঠাৎ গোডাউনে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে। গোডাউনে বিপুল পরিমাণ তুলা মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। আগুনের লেলিহান শিখা ও ধোঁয়া দেখে আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনও আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতার চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অগ্নিকাণ্ডে গোডাউনে থাকা তুলা তৈরির দুটি বড় মেশিন, দুটি মোটর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। পাশাপাশি টিনশেডের গোডাউনটিও আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
গোডাউনের মালিক ফারুক মিয়া ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি একজন অসহায় মানুষ। ঋণ করে অনেক কষ্টে ব্যবসাটি পরিচালনা করে আসছি। এই ব্যবসার ওপরই আমার জীবিকা নির্ভরশীল। আগুনে আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, কীভাবে আবার ঘুরে দাঁড়াব—তা বুঝে উঠতে পারছি না।’
তিনি আরও জানান, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁর ধারণা। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে আকস্মিক এ অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীর ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঋণের টাকায় গড়ে তোলা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি হারিয়ে ফারুক মিয়া এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
![]()
