হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুরে কুটিরশিল্প ও বাণিজ্যমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক মাস ধরে মেলার প্রস্তুতি চলার পর মাঠে স্থাপন করা হয় শতাধিক স্টল। বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা পণ্যসামগ্রী নিয়ে এসে দোকানও সাজিয়ে ফেলেন।
এমনকি আগামী ১ নভেম্বর মেলার উদ্বোধনের ঘোষণাও দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের অনুমোদন না থাকায় শেষ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মেলার প্রস্তুতি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মিরপুরে এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে অনুমতি ছাড়া দোকান বসানোর দায়ে ১৩ জন ব্যবসায়ীকে মোট ১২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে মাঠে স্থাপন করা দোকানপাট সরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুরের একটি মাঠে প্রায় এক মাস আগে থেকেই কুটিরশিল্প ও বাণিজ্যমেলা আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে মাঠে নির্মাণ করা হয় শতাধিক স্টল। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পণ্যসামগ্রী নিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। মেলা উপলক্ষে এলাকায় প্রচারণাও চালানো হয় এবং আগামী ১ নভেম্বর উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত ১৬ অক্টোবর মেলার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছিল। এরপরও মেলার প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে মাঠে বিপুলসংখ্যক স্টল স্থাপন ও ব্যবসায়ীদের পণ্য নিয়ে আসার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসন মেলার মাঠে অভিযান পরিচালনা করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়ীদ মোহাম্মদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বাহুবল মডেল থানা পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
অভিযানকালে অনুমোদনের বিষয়টি যাচাই করা হয়। এ সময় অনুমতি ছাড়া দোকান বসানোর দায়ে ১২ জন ব্যবসায়ীকে ১২ হাজার টাকা এবং এক নারী ব্যবসায়ীকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে মাঠে স্থাপন করা দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসনের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে মেলা মাঠে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দূর-দূরান্ত থেকে পণ্য নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের অনেকেই বিপাকে পড়েন। মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের পণ্য নিয়ে কী করবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও মেলার প্রস্তুতি অব্যাহত রাখায় শেষ মুহূর্তে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, বড় ধরনের কোনো আয়োজনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষও ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়ীদ মোহাম্মদ বলেন, “প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই মেলা বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। অভিযান চালিয়ে দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় অনুমতি ছাড়া দোকান বসানোর দায়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। তবে অভিযানকালে আয়োজক কমিটির কাউকে পাওয়া যায়নি।”
অভিযানের সময় আয়োজক কমিটির কাউকে না পাওয়ায় মেলা আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে আয়োজক কমিটির কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক অনুমোদনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল, অগ্নিনিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের বড় আয়োজন যাতে গড়ে উঠতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
![]()
