মেঘনাপোষ্ট ডেস্ক রিপোর্ট :
হাজীগঞ্জে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে এক পল্লিচিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ওই স্যালাইন প্রয়োগের পর গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেন বলে দাবি করেছেন তাঁর স্বামী আরিফ মিয়া। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসক নরেশ ওরফে বাদলের বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অভিযোগের বিষয়টি জানা যায়। অভিযোগকারী আরিফ মিয়া (২৬) চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা। তাঁর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তাঁর স্ত্রীর প্রসবব্যথা শুরু হয়। পরে ২১ অক্টোবর ভোর পাঁচটার দিকে ব্যথা বেড়ে গেলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় নরেশ ওরফে বাদল তাঁর স্ত্রীর শরীরে স্যালাইন প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরিফ মিয়ার দাবি, স্যালাইনের গায়ে মেয়াদ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত লেখা ছিল। অর্থাৎ স্যালাইনটি ব্যবহারের সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। স্যালাইন প্রয়োগের পর তাঁর স্ত্রীর প্রসবব্যথা বেড়ে যায়। পরে তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগকারী বলেন, স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং সন্তান হারানোর ঘটনায় তিনি উদ্বিগ্ন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে হাজীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত নরেশ ওরফে বাদল হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজরাগাঁও ইউনিয়নের মুকুন্দসার গ্রামের শীলবাড়ির বাসিন্দা। ওই এলাকায় তাঁর অনয় ফার্মেসি নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত নরেশ ওরফে বাদলের বক্তব্য জানতে তাঁর বাড়িতে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তাঁর ভাই ঢাকা উত্তরা এপিবিএন হেডকোয়ার্টারে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) গণেশ শীল বলেন, ‘আপনারা সংবাদ করে আমাদের মান-সম্মান নষ্ট কইরেন না। আমরা আপনাদের বিষয়টি দেখব। একটু অপেক্ষা করেন।’
![]()
