• Mon. Nov 2nd, 2026

meghnapost.online

তাঁবেদারী নয়, সত্য প্রকাশে দূর্বার সাহস

ফরিদগঞ্জে আমনের মাঠে সবুজ পাতায় দুলছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন ফসলের খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক

Bymeghnapost .online

Oct 22, 2026

বিশেষ প্রতিনিধি :

মাথার ওপর হেমন্তের আকাশ টানিয়েছে নীল শামিয়ানা। আর নিচে বিছানো সবুজের চাদর। যত দূর চোখ যায়, দিগন্তজুড়ে আমনের খেতে বাতাসের দোলা। সেই বাতাসে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নও। আমনের বাম্পার ফলনের আশায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার আমন চাষিরা। ইতিমধ্যে জমিতে লাগানো ছোট্ট আমন চারা অনেক বড় হয়েছে। পরিমিত সার আর পরিচর্যায় লকলকে চারা গাছ এখন কৈশোরকাল অতিক্রম করছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ৮০৫০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বি আর-২২, বিআর-২৩, ব্রি ধান-৮৭, ব্রি ধান-৪৯, ব্রি ধান-৫১ হয়েছে। একই সাথে হাইব্রিড ধানীগোল্ড জাতের আবাদও অনেক জমিতে চাষ হয়েছে।

এরই মাঝে আগাম জাতের কিছু ধানের শিষ বের হয়েছে। বড় কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আর মাত্র এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে স্বপ্নের ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। ভালো ফলনের আশায় মাঠে মাঠে ফসলের নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কিষাণ-কিষাণীরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ বিস্তীর্ণ রোপা আমনের খেত। কৃষকেরা কোথাও কৃষক আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কোথাও জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সার, কীটনাশক ও আগাছানাশক প্রয়োগ করছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি মৌসুমে আমন ধানের খেত বেশ সতেজ ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

উপজেলার গুপ্তের বিল এলাকার কৃষক মমতাজ উদ্দিন জানান, বর্তমানে আমন খেতে আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ ও কীটনাশক ব্যবহারের কাজ চলছে। ধানের গাছের অবস্থাও খুব ভালো। শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর আশাতীত ভালো ফলন পাওয়া যাবে। তবে সেজন্য সার ও কৃষি উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁর।

কমলকান্দি গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি জমিতে আমনের আবাদ করেছি। আল্লায় দিলে ফসলের লক্ষণও ভালো। আশা করি যে ধারদেনা করে গেরস্তি করছি, তা পরিশোধ করেও সারা বছরের সংসার খরচ ও খোরাকি নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না।’

ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার বলেন, ‘কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের ফসলের পরিচর্যা, সার প্রয়োগ ও পোকামাকড় দমনে সরাসরি পরামর্শ দিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমনের বাম্পার ফলন হবে এবং এতে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

Loading

Share this news as a Photo Card

By meghnapost .online

তাঁবেদারী নয়, সত্য প্রকাশে দূর্বার সাহস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *