শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মারপিট ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় শারীরিক প্রতিবন্ধী ও চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তিকে আসামি করার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ঘটনার সময় তিনি অন্য স্থানে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ। এ দাবির সমর্থনে চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন ও অন্যান্য নথিপত্র থাকার কথাও জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪টার দিকে শ্যামনগর থানাধীন ১২ নম্বর গাবুরা ইউনিয়নের চাঁদনীমুখা ব্রিজের ওপর মারপিটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর, গত ১৬ অক্টোবর শ্যামনগর থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় কাশিমাড়ী ইউনিয়নের গাংআটি গ্রামের আব্দুল ওহাব কবিরাজের ছেলে মো. আবুল হাসনাত হাসু (৩০) ৩ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছেন।
হাসুর পক্ষের দাবি, মামলায় উল্লেখ করা ঘটনার দিন ও একই সময়ে তিনি নিজেই গুরুতর শারীরিক জখম নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. বি. কে. মণ্ডলের তত্ত্বাবধানে ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল ও রিস হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
তাঁর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তাঁর হাত গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ-সংক্রান্ত চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন ও আঙুলের আঘাতের ছবি তাঁদের কাছে রয়েছে। এসব নথি যাচাই করা হলে ঘটনার সময় তাঁর অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
এদিকে, মামলার অভিযোগে বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে পথরোধ, মারপিট ও ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার সময় হাসু চিকিৎসাধীন ছিলেন—তাঁর পক্ষের এ দাবি এবং চিকিৎসার নথিপত্রের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। একই সঙ্গে চিকিৎসার নথিপত্র যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
![]()
