মেঘনা পোস্ট ডেস্ক রিপোর্ট :
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে একটি বেসরকারি হাসপাতালের জেনারেল ফিজিশিয়ান আবু ছায়েদ সুমনের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। একই হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ড বয় দিয়ে এক্স-রে করানোরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক কর্মচারী বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
অভিযোগকারী শরিফ জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর হাজীগঞ্জ পূর্ববাজারের ব্রিজের গোড়ায় অবস্থিত শাহজাহান মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে আলট্রাসনোগ্রাম করাতে যান তিনি। এ সময় ফিজিশিয়ান আবু ছায়েদ সুমন ব্যথার জন্য তাকে পাঁচটি ইনজেকশন দেন বলে অভিযোগ করেন শরিফ।
শরিফের দাবি, ইনজেকশন নেওয়ার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বমি করতে থাকেন। পরে স্বজনরা তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
শরিফ অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালটিতে ভুল চিকিৎসার কারণে তার শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি হাসপাতালের মালিক ডা. নজিবুল আলম তাকে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক দুলালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ডাক্তার না থাকায় তাকে এনে একদিনের জন্য আমরা বসিয়েছি।”
এদিকে হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে ওয়ার্ড বয় দিয়ে এক্স-রে করানোর অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি অনুসন্ধানকালে হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় মো. বাহার উদ্দিন (রিয়াজ) এক্স-রে করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “লোক না থাকলে আমি এক্স-রে করি।”
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী প্রশিক্ষিত ও অনুমোদিত টেকনিশিয়ান ছাড়া এক্স-রে করা যায় কি না—এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহমেদ তানভীর বলেন, “টেকনিশিয়ান ছাড়া এক্স-রে করানোর সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ফিজিশিয়ান আবু ছায়েদ সুমনের বলেন : সিনিয়র ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে শরিফকে চিকিৎসা দিয়েছি।
ডা আজাদ ও ডা নজিবুল আলমকে পুরো ঘটনা বলেছি। তারা যদি বলে আমি ভুল চিকিৎসা দিয়েছি তাহলে আমি ভুল।
